একই ডালে তিনটি সূর্যমুখী ফুটেছিল, যা আমার সাধারণ জীবন নিয়ে ছোট ছোট আফসোসগুলো দূর করে দিচ্ছিল।

জীবন হলো লুপ বাটন চাপা একটি পুরনো রেকর্ডের মতো।সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কর্মব্যস্ততা, একঘেয়ে ফাস্ট ফুড, আর নিঃসঙ্গ গোধূলি – এই খণ্ডিত দৈনন্দিন রুটিনগুলোই অধিকাংশ মানুষের জীবনের সাধারণ চিত্রটি ফুটিয়ে তোলে। উদ্বেগ আর ক্লান্তিতে ভরা সেই দিনগুলোতে আমার সবসময় মনে হতো জীবনে একটা উজ্জ্বল আলোর অভাব রয়েছে, এবং একটি আদর্শ জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধানের অনুশোচনায় আমার হৃদয় ভরে থাকতো। সেই একটিমাত্র তিন-মাথাওয়ালা সূর্যমুখী ফুলটির দেখা পাওয়ার আগ পর্যন্ত, যেটি এক অনন্য ভঙ্গিতে ফুটেছিল, আমি নীরবে আমার হৃদয়ের ভাঁজগুলো মসৃণ করতে পারিনি এবং আমার সাধারণ জীবনে আলোর পুনরাবিষ্কার করতে পারিনি।
এটাকে বাড়ি নিয়ে এসে বিছানার পাশে রাখা সাদা সিরামিকের বোতলটায় রাখলাম। সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘরটা আলোকিত হয়ে উঠল। সকালের প্রথম সূর্যরশ্মি জানালা দিয়ে এসে পাপড়িগুলোর ওপর পড়ল। তিনটি ফুলকে তিনটি ছোট সূর্যের মতো দেখাচ্ছিল, যা থেকে উষ্ণ ও ঝলমলে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। সেই মুহূর্তে আমি হঠাৎ উপলব্ধি করলাম যে সাধারণ দিনগুলোরও এমন চমৎকার শুরু হতে পারে। আমি সবসময় অভিযোগ করতাম যে জীবনটা বড্ড একঘেয়ে, প্রতিদিন একই রুটিনের পুনরাবৃত্তি, কিন্তু আমি এটা উপেক্ষা করতাম যে, যতক্ষণ আমি মন দিয়ে আবিষ্কার করব, ততক্ষণ অপ্রত্যাশিত সৌন্দর্য সবসময় অপেক্ষা করবে। এই সূর্যমুখী ফুলটি যেন জীবন থেকে পাঠানো এক দূত, যা তার অনন্যতা দিয়ে আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে দূরত্বের কাব্য নিয়ে আচ্ছন্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; আমাদের চোখের সামনে থাকা ছোট ছোট আনন্দগুলোও লালন করার যোগ্য।
এর ক্ষণস্থায়ী কিন্তু উজ্জ্বল প্রস্ফুটন আমার জীবনে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করেছে। এটি আমাকে বোঝায় যে, জীবনের কাব্য কোনো দূরবর্তী বা নাগালের বাইরের স্থানে নয়, বরং আমাদের চোখের সামনে থাকা প্রতিটি মুহূর্তেই নিহিত। জীবনের কোনো না কোনো কোণে অপ্রত্যাশিত সৌন্দর্য সবসময়ই থাকবে, যা ছোটখাটো আফসোসগুলোকে সারিয়ে তোলে এবং সামনের পথকে আলোকিত করে।
চিরন্তন খুঁজুন শান্তি শক্তি


পোস্ট করার সময়: জুন-০৩-২০২৫